Posted On: August 9th 2026, 02:33 am
জীবন কী?
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কাল?নাকি একদিন চলে যেতে হবে সব ছেড়ে জেনেও বেঁচে থাকা? এই প্রশ্নের বোধহয় কোনো একমাত্রিক উত্তর নেই আমাদের কারুর কাছে।
উত্তর পাওয়া যায় না বলেই উপন্যাসের নায়ক ঋজু আর আমরা বার বার ঘুরে বেড়াই ওলি গলি— কখনও শহরের কখনও বা নিজেদের মনের। কিন্তু দিনের শেষে যখন বয়স বাড়ে তখন বুঝি হয়ত এই বয়সের ভার আর বুকে চাপা ক্ষত নিয়ে লড়াই করে যাওয়ার নামই জীবন!
এই উপন্যাস পড়ার আগে আমি ভাবতাম উপন্যাসের এইরকম নামকরণ কেনো? কারণ আমি যতদূর জানি এ তো স্রেফ এক ডিভোর্সী মানুষের বেনারস ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। কিন্তু বইটি পড়ার পর আমি বুঝতে পেরেছি এর থেকে সুন্দর নাম বোধহয় এই উপন্যাসের হতো না— আমাদের জীবনের লাভ, ক্রোধ, অপূর্ণতা, হেরে যাওয়ার পাঁকের মধ্যেই তো জন্ম নেয় মনের সমস্ত আশা নিয়ে বেড়ে ওঠা পদ্মবন-"হৃদয়ের পদ্মবন"
এই উপন্যাস বড্ডো সাদামাটা, কোনো অতি নাটকীয়তা বা অসম্ভব বাস্তব নেই এইখানে, আছে শুধু বাস্তব। হেরে যাওয়ার বাস্তব, হারিয়ে ফেলার বাস্তব এবং এত কিছুর পরও হারিয়ে না যাওয়ার বাস্তব। উপন্যাসের পাতায় পাতায় উঠে আসা ঋজুর চারপাশের মানুষদের আমরা যদি নিজের মানসকাঁচ দিয়ে দেখি তো দেখব, এরা আমাদের চারপাশেও আছে— কখনও সোমনাথের মত হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্ব নিয়ে, কখনও গুরুজি বা চন্দনদার মত অভিভাবক হয়ে। অম্বলিকা, পৌষালী, আঁখি, ঝিমলি— হয়ে আছে একাকীত্বের সংজ্ঞা হয়ে, কখনো সব থেকেও একা, কখনো সব নিজের ইচ্ছায় ত্যাগ করে একা কখনও বা একা থাকাই বাস্তব এই বোধ থেকে একা!
এই উপন্যাসের কাহিনী গতি ধীর, আত্মবিশ্লেষণী এবং খানিক চোখকে আর্দ্র করে দেওয়ার মত। লেখক সহজ ভাষায় যেনো পড়ে ফেলেছে আমায়, আপনাকে আমাদের সবাইকে— বুঝে গেছে আমরা আদতে ভীতু, অস্বীকার করি যা যা বিশ্বাস করতে মন চায় না আমাদের।
১৫২ পাতার বইটি তাই শেষ করার পর এক ভিন্ন অনুভূতি হয়, তার কোনো সংজ্ঞা হয় না বা হয়ত হয়—বেনারসের ঘাটে বসে অগুনতি মানুষের মাঝে যে অনুভূতি হয় তেমন কিছুই!
📚 হৃদয়ের পদ্মবনে
✍️অভীক দত্ত
🖨️পত্রভারতী
₹২৫০
জানুয়ারি, ২০২৬